খিচুড়ি কথন

 খিচুড়ি আপাত দৃষ্টিতে সহজ ব্যাপার মনে হয়, কিন্তু চাল ডাল ঠিক মত মেলা দরকার নইলে সে বস্তু খিচুড়ি হয়ে উঠবে না । হয়তো খাওয়ার অযোগ্য হয়েও পরতে পারে। আর প্রথমে যে যতই ভাবুক যে এটি শুধু চাল আর ডালের ব্যাপার, কিন্তু , শেষ অব্দি সব ধরনের খিচুড়ির স্বাদ ঠিক হতে হলে তার জল, মশলা, উনুনের আঁচ এসব আনুষঙ্গিক ব্যাপার আর পারিপার্শ্বিক বস্তুগুলো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সব চাল কিম্বা সব ডাল , খিচুড়ির জন্য নয়। তারা আলাদা পরিচয় পেলেই বরং পাশাপাশি ভালো। যেমন জিরা রাইস আর ইয়েলো ডাল তারকা । ওদের মিলিয়ে দিয়ে খিচুড়ি বানাতে গেলে ব্যাপার টা ভালো হয় না। বরং পাশাপাশি আলাদা পাত্রে নিজস্ব পরিচয়ে ওরা ভালো।

তেমনি কিছু চাল আর ডাল মেলানো টা বড্ড গোলমেলে হয়ে যায়। Boiling point আলাদা আলাদা । কিছুতেই মিশবে না । সে রকম চাল ডালের খিচুড়ি বানানোর চেষ্টা , বৃথা প্রচেষ্টা। সেটা সময়ে বুঝতে পারা টা, চাল এবং ডাল, দুটোরই জন্য মঙ্গল, নইলে একে অপরের স্বাদ নষ্ট করা ছাড়া তারা কিছু করবে না।

আবার কিছু চাল আর ডাল, মিলিয়ে চেষ্টা হয়তো করা হচ্ছে, ব্যাপারটা বুঝে সময় থাকতে আলাদা করে পরে অন্য যুতসই কম্বো বানানো অন্য কিছুর সাথে, তাতে বরং চলনসই কিছু পদ তৈরি হয়ে যেতে পারে। 

আবার এমনও হয় যে, কিছু চাল কিছু ডাল, তারা আলাদা আলাদা কিছুই নয়, কেও পোছে না তাদের । কিন্তু যখন সে চাল কি ডাল মেলানো হয়, তখন স্বাদে গুনে সমৃদ্ধ খিচুড়ি তৈরি হয়। সে খিচুড়ি যত বাসি হয়, তত স্বাদ খোলতাই হয়। 

বিয়ে থা ব্যাপার টাও খানিক টা খিচুড়ির মতন মনে হয় মাঝে মাঝে।

Comments

Popular posts from this blog

লাভানীর উপকথা